শিশুদের নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব (Importance of safe internet for children)
শিশুদের নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব
![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
বর্তমান যুগে ইন্টারনেট প্রযুক্তি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং জ্ঞানের অবারিত ভাণ্ডার। শিশু-কিশোররা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে উঠছে। শিক্ষা থেকে বিনোদন, এমনকি সামাজিক যোগাযোগেও ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিহার্য। তবে শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ, যেমন অনুপযুক্ত কনটেন্ট, সাইবার বুলিং এবং গোপনীয়তার ঝুঁকি। এ কারণে শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আর এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নিন্মে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো এবং কীভাবে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি।
শিশুদের নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারে পরিবারের ভূমিকা:
নিরাপদে কিভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় শিশুদের এই বিষয়ে শিক্ষা প্রাথমিকভাবে পরিবারের কাছ থেকেই হওয়া উচিত। কারণ অভিভাবক সচেতন হলে শিশুরা নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবে। আর বাচ্চারা যখন সচেতন হবে তখন অনলাইনে অপরিচিত কারো বন্ধুত্ব গ্রহণ করবে না, কারো কাছে লিংক শেয়ার করবে না এমনকি অপরিচিত কোন লিংকে ক্লিক করবেনা। কারণ অধিকাংশ সাইবার অপরাধীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে শিশুরা যেহেতু প্রতিনিয়ত অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করে এবং মোবাইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য আদান প্রদান করে আর অপরাধীরা সেগুলোই সংগ্রহ করে তাদেরকে ফাঁদে পালানোর চেষ্টা করে। তাই এ ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা:
আমরা যদি শিশুদের অনলাইনে ডিজিটাল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই সেক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে নিরাপদে অনলাইন ব্যবহার বিষয়ক সচেতনতা মূলক কৌশল শিক্ষা দান করতে হবে। এই জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাঠ দানের পাশাপাশি অনলাইনে কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিরাপদ করা যায় সেই বিষয়েও শিক্ষাদান করতে হবে।
এভাবেই শিশুরা সাইবার ক্রাইমের ক্ষতির দিক ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে পারবে এবং কিভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করতে হয় সে বিষয়ে সচেতন হবে। এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা ভয় না পেয়ে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার শিখবে।
মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভূমিকা:
শিশুদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ করতে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলোর ভূমিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে শিশুদেরকে নির্ভয় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে দেশের মোবাইল অপারেটর গুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। অভিভাবক এবং শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণফোন ২০১৪ সাল থেকে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। অভিভাবকদের সচেতন করার লক্ষ্যে তারা 'নিরাপদ ইন্টারনেট' নামক একটি বইও প্রকাশ করেছে। অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম নিয়ে এগিয়ে আসলে শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পিতামাতার জন্য পরামর্শ:
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে শিশুদের কে প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে শিশু বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা উত্তম। এক্ষেত্রে YouTube এর পরিবর্তে YouTube Kids ব্যবহার করা শিশুদের জন্য উপযোগী। ডিভাইস এবং অ্যাপ্লিকেশনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে শিশুর জন্য সুরক্ষিত ব্রাউজিং পরিবেশ তৈরি করুন। আবার বয়স অনুযায়ী শিশুদের জন্য শিশু বান্ধব কন্টেন চালু করার জন্য ফিল্টারিং ব্যবস্থা চালু করে রাখতে পারেন।
স্কিন টাইম নির্দিষ্ট করে দিয়েও ভিডিও দেখার সময় সীমিত করে দেওয়া যায়। কারণ তাদেরকে বোঝাতে হবে ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক এবং শারীর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই পদ্ধতিতে বেশি সময় স্ক্রিনে কাটানোকে নিরুৎসাহিত করুন।
শিশুকে শেখান কিভাবে অপরিচিত লোকদের তথ্য শেয়ার না করে, সন্দেহজনক লিংক বা ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করুন। শিক্ষামূলক এবং ইতিবাচক কার্যক্রমে শিশুকে অভ্যস্ত হতে সাহায্য করুন।
বাচ্চারা অনেক সময় বন্ধুদের সাথে অডিও ভিডিওতে ভাব বিনিময় করে তাদের এই ভাব বিনিময়ের সময় তাদের আচার-আচরণ ভালো করে লক্ষ্য রাখুন। যে কারো সাথে ভালো আচরণ করাকে উৎসাহিত করুন। নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। মাঝে মাঝে তাদের চ্যাট হিস্ট্রি পড়ে দেখুন এবং তাদের ব্রাউজ কৃত ওয়েবসাইট গুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা করুন।
উপরের আলোচনায় আমরা জেনেছি, শিশু-কিশোরদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো কেবল তাদের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং তাদের সৃজনশীলতা এবং মেধার বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

Great
ReplyDelete